সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব(একত্রে তিন খন্ড)
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, অতঃপর আল্লাহর রাসূল (স) এর ওপর অসংখ্য দুরূদও সালাম বর্ষিত হোক। অত্র কিতাবে শরী’য়তের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নত (তারগীব) বা সহীহ আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী ও ترهی )তারহীব( বা হারাম-নিষিদ্ধ কাজে ভীতি প্রদর্শনকারী হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
কিতাবটির মূল সংকলক আল্লামা মুনযিরী (৫৮১-৬৫৬ হি.) হাদীসের প্রসিদ্ধ ৬ টি কিতাবসহ অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত এ সংক্রন্ত প্রায় সবগুলো হাদীস একত্রিত করেছেন। কিন্তু তিনি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সহীহ না যঈফ, হাদীসের সনদে বা মতনে কোন দোষ আছে কিনা কিছুই উল্লেখ করেন নি।
তবে তিনি হাদীস বর্ণনায় দুইটি পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। যথা- (১) যে হাদীসগুলো সহীহ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন সেগুলো (১৬) শব্দ দ্বারা বর্ণনা শুরু করেছেন। (২) যে হাদীসগুলো দুর্বল হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন সেগুলো (১৩) শব্দ দ্বারা বর্ণনা শুরু করেছেন। এ পদ্ধতি সহীহ-যঈফ নির্ণয়ে সুস্পষ্ট নয়। বিধায় পাঠক সমাজ হাদীস গ্রহণে দিশেহারা হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ সহীহ-যঈফ বিষয়টি উল্লেখ করা অনেক জরুরী ছিল। কেননা, বর্তমান যুগে অজ্ঞতা অনেক বেশি, সাধারণ পাঠক হাদীসের সহীহ-যঈফ পার্থক্য বুঝে না।
অথচ অধিকাংশ মুহাদ্দিসদের মতে যঈফ হাদীস দ্বারা শরী’আতের কোন বিষয়ে আমল করা যায় না। যেমন ইবনুল আরাবী (ক) বলেন ‘যঈফ হাদীস দ্বারা কোন ক্ষেত্রেই আমল করা যায় না।’ ইমাম মুসলিম (ক) তাঁর রচিত সহীহ মুসলিমের ভূমিকায় বলেন, “মানুষের উপর আবশ্যক ছিল। যঈফ ও মুনকার হাদীসের বর্ণনাসমূহ পরিত্যাগ করা এবং শুধুমাত্র প্রসিদ্ধ সহীহ হাদীসসমূহ গ্রহণ করা। কেননা, যঈফ-মুনকার হাদীসগুলো সাধারণ সমাজে ছড়ানোর কারণে মানুষ আমলের ক্ষেত্রে দ্বিধা-দ্বন্দের মধ্যে পড়ে যায়।
যেহেতু তারা হাদীসের দোষ ত্রুটি সম্পর্কে অবগত নয়। “এছাড়াও যঈফ হাদীসের প্রতি আমল করা থেকে দূরে থাকার জন্য বহু বিজ্ঞ মুহাক্কিকৃ উলামা সতর্ক করেছেন। এ বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় আল্লামা আলবানী (ক) দীর্ঘদিন গবেষণা করে সহীহ ও যঈফ পৃথক করনার্থে আল্লামা মুনযিরী (১) এর ‘তারগীব ও তারহীব’ কিতাবটিকে নতুন করে ৩টি সহীহ ও ২টি যঈফ খণ্ডে সংকলন করেন । যার কার্য ১৩৯৬ হিজরীতে সমাপ্ত করেন। আর তাহক্বীকু যুক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি শুধু হাদীসের হুকুম সহীহ, হাসান ইত্যাদি বলেছেন। বিস্তারিত কারণ তাঁর সংকলিত সিলসিলাহ সহীহাহ, সিলসিলাহ যঈফাহ, সহীহ আল জামে’ আস-সগীর এবং যঈফ আল জামে’ আস-সগীর কিতাবে উল্লেখ করেছেন।
’সহীহ্ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব’ এবং ‘যঈফ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব’ নামে পৃথক দুটি কিতাব মানুষের সামনে উপস্থাপন করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রথম কিতাবের হাদীসগুলো মানুষ বিশ্বাস করবে এবং তার প্রতি সাধ্যানুযায়ী আমল করবে। আর দ্বিতীয় কিতবের হাদীসগুলো বিশ্বাস করা ও আমল করা থেকে বিরত থাকবে এবং তা নবী (স) এর প্রতি সম্বোধিত করা হতে সতর্ক থাকবে। যাতে করে পাঠক নবী (স) এর প্রতি মিথ্যারোপের গুনাহে লিপ্ত না হয়। কারণ, রাসূল (১) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়, সে তার ঠিকানা জাহান্নাম বানিয়ে নিল। (বুখারী ১০৭, মুসলিম ৩) উল্লেখ্য, সহীহ-যঈফ নির্ণয় সক্রান্ত নীতিমালা কিতাবটির মূল ভূমিকা অত্র কিতাবের শেষার্ধের ৫৮৬ হতে ৬২১ পৃষ্ঠায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যা প্রতিটি পাঠকের জানা দরকার।
সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব কিতাবে মোট ৩৭৭৫টি হাদীস, ২৮টি অধ্যায় ও ১৬৮টি পরিচ্ছেদ বা পর্ব রয়েছে। তন্মোধ্যে প্রথম খণ্ডে ১২১৫টি হাদীস, ১১টি অধ্যায় ও ১৪৫টি পরিচ্ছেদ বা পর্ব রয়েছে। আর যঈফ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব কিভাবে মোট ২২৪৮টি হাদীস রয়েছে। তারপর যে কথাটি না বললেই নয়, মানুষ ভুল-ত্রুটির উর্দ্ধে নয়। তাই কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি প্ররিলক্ষিত হলে আমাদের অবহিত করলে কৃতজ্ঞ থাকব এবং পরবর্তী সংস্করণে সুধরিয়ে নেব ইনশা-আল্লাহ।
Reviews
There are no reviews yet.