সীরাতুর রাসূল (ছাঃ)
ইসলামের আলো আসার আগে যে যুগকে আইয়্যামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকারের যুগ বলা হতো। যে সময়ে মানুষ কন্যা সন্তান কে নিজের জন্য অকল্যাণ মনে করতো। কন্যা সন্তান কে জিবন্ত দাফন করতো। সেই জাহেলিয়াতের যুগে কুরআনের আলোক বার্তা নিয়ে রাসূল (ছাঃ) আগমন করেন। লেখক তার লেখনি দৃঢ়তায় রাসূল ছাঃ এর দাওয়াতি পদ্ধতিতে সুনিপুণ ভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
এখানে ফুটে উঠেছে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর শৈশব থেকে হিজরত এর আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাবলি যেগুলো নেওয়া হয়েছে কুরআন ও সহিহ হাদিস থেকে। তার বংশ, জন্ম-মৃত্যু, বংশধারা, লালন-পালন, বক্ষ বিদারণের ঘটনা, কিশোর মুহাম্মাদ ও ব্যবসায় গমন, ফিজার যুদ্ধের ঘটনা এবং এর প্রেক্ষাপটে হিলফুল ফুজুল (শান্তি সংঘ) প্রতিষ্ঠা, বিবাহ, সন্তান-সন্ততি, নবুয়াত লাভ, অতঃপর দাওয়াতী জীবন। দাওয়াতী জীবনের বিভিন্ন বাধা বিপত্তি (বিশেষ করে তায়েফের ঘটনা এবং সেখান থেকে আমাদের কি শিক্ষনীয়), হিজরতের সময়ের বিভিন্ন ঘটনাবলি এবং সমাজে প্রচলিত কিছু ঘটনার সত্যতা ও যাচাই করা হয়েছে। এসব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
মাদানী জীবন মূলত হিজরতের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। মাদানী জীবনে মুলত ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার গোড়াপত্তন হয়। মুহাজির ও আনসার গণের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন দেখা যায় যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। মাদানী জীবনে ইসলামি জিহাদের অনুমতি দেওয়া হয়। এর কারণ বিস্তারিত উল্লেখ করা আছে। আমরা কাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধো করতে পারি সে সম্পর্কে ও বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাঃ যে একজন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন সে গুলোও ফুটে উঠেছে। মাদানী জীবনে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিধান নাজিল হয়েছে। বিদায় হজ্জের সেই ভাষণ আজও মুসলিম দের মনে মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছে। মাদানী জীবন শেষ হয়েছে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর ওফাতের মাধ্যমে। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর মৃত্যুর সময়ের অবস্থাটা পড়ে আপনার চোখে পানি আসতে বাধ্য।
Tamanna Jahan –
বাংলা ভাষায় এটার মতো এতো সুন্দর সীরাত আর একটিও নেই। এই সীরাতটি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সীরাতের উপর রেফারেন্স বুক হিসেবে রাখা হয়েছে। বইটি আসলেই অনেক তথ্যবহুল।